সরাসরি মূল অংশে যান
আমরা কারা

মানুষের বিপদে মানুষ, খোলা হিসাবের খাতা নিয়ে।

নামটি এসেছে “লাগবে” শব্দ থেকে — মানে যা দরকার। এক বন্যার সময় হাতেগোনা কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক মিলে আমাদের শুরু। এখন আমরা একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন; সমিতি হিসেবে আরজেএসসিতে নিবন্ধনের কাজ চলছে। একটি পরিবারের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সত্যিই যা দরকার, আমরা সেটাই দিই — আর দাতাদের দেখাই, প্রতিটি টাকা ঠিক কোথায় গেল।

সেলাই মেশিনে কাজ করছেন স্বাবলম্বী কর্মসূচির একজন সুবিধাভোগী
আমরা কেন কাজ করি

দয়ার ওপর নির্ভরতা নয়, সম্মানের সাথে বাঁচা

টাকা ফুরিয়ে গেলেই যে সাহায্য থেমে যায়, তা দিয়ে একটি পরিবারের অবস্থা বদলায় না। তাই আমরা খুঁজে বের করি — কোন একটা জিনিস পেলে পরিবারটি নিজেই আয় করতে পারবে, পড়াশোনা চালাতে পারবে বা সুস্থ হয়ে উঠবে। তারপর সেটা নিজেরা গিয়ে হাতে পৌঁছে দিই।

আমাদের লক্ষ্য

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের হাত ধরে রোজগারের উপকরণ, শিক্ষা, চিকিৎসা আর সবুজ পরিবেশের মাধ্যমে সারা দেশের পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলা।

আমাদের স্বপ্ন

এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে একটা অসুখ, একটা চাকরি হারানো বা এক মাসের স্কুলের বেতন দিতে না পারার কারণে কোনো পরিবারকে সব হারাতে হবে না।

আমাদের অঙ্গীকার

যাকাতের টাকা শুধু যাকাতের খাতে, কর্মসূচির টাকা শুধু সেই কর্মসূচিতে। প্রতিটি দান আর প্রতিটি খরচ আমরা ডাবল-এন্ট্রি হিসাবের খাতায় তুলি এবং সবার জন্য প্রকাশ করি।

যে নীতিতে আমরা চলি

চারটি নীতি, যেখানে কোনো ছাড় নেই

আমানতদারি

আপনার দান আমাদের কাছে আমানত। শেষ টাকাটি পর্যন্ত আমরা সেই দায়িত্ব নিয়েই খরচ করি।

সম্মান

অনুমতি ছাড়া আমরা কোনো পরিবারের ছবি তুলি না, নামও প্রকাশ করি না। তাদের কী দরকার, তা নিজেরা ধরে না নিয়ে তাদের কাছেই জিজ্ঞেস করি।

স্থানীয় মানুষ, স্থানীয় দল

আমাদের মাঠকর্মীরা যে এলাকায় কাজ করেন, সেখানেই থাকেন। প্রতিটি আবেদন তাঁরা নিজে গিয়ে সরাসরি যাচাই করেন।

টেকসই পরিবর্তন

এক প্যাকেট খাবারের চেয়ে একটা রিকশা, একবারের সাহায্যের চেয়ে একটা বৃত্তি — যাতে আমরা চলে আসার পরও সাহায্যটা কাজে লাগতে থাকে।

আমাদের পথচলা

একটি বন্যা থেকে পাঁচটি কর্মসূচি

ছোট্ট একটি স্বেচ্ছাসেবী দল কীভাবে ফাউন্ডেশন হয়ে উঠল, সংক্ষেপে সেই গল্প।

  1. জুন ২০২৪

    স্বেচ্ছাসেবকদের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে

    উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকস্মিক বন্যার সময় স্বেচ্ছাসেবকদের একসাথে করার একটা সহজ উপায় হিসেবে শুরু হয় লাগবে ফাউন্ডেশন।

  2. জানুয়ারি ২০২৫

    লাগবে ফাউন্ডেশন গড়ে ওঠে, স্বাবলম্বী কর্মসূচি শুরু

    আমরা রোজগারের উপকরণ দেওয়া শুরু করি — সেলাই মেশিন, রিকশা আর ছোট দোকান চালুর জন্য মালামাল।

  3. মার্চ ২০২৬

    তুহুর অ্যাপের কাজ শুরু

    শুরু করি তুহুর তৈরির কাজ — নামাজের সময়, যাচাই করা মসজিদের তালিকা আর কুরআন-দোয়াসহ একটি ফ্রি ইসলামিক অ্যাপ, যাতে কোনো বিজ্ঞাপন নেই।

  4. এখন

    পাঁচটি কর্মসূচি, একটিই স্বচ্ছ হিসাব

    শিক্ষা সহায়তা, স্বাবলম্বী, স্বাস্থ্য সেবা, সবুজ বাংলাদেশ আর তুহুর — পাঁচটি কর্মসূচি এখন একসাথে চলছে। সব টাকার হিসাব উঠছে একটি উন্মুক্ত ডাবল-এন্ট্রি খাতায়।

লাগবে ফাউন্ডেশনের পেছনের মানুষগুলো

যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন

মানবসেবায় নিবেদিত কর্মী আর প্রকৌশলীরা মিলে আমাদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন, দাতাদের আস্থার মর্যাদা রাখছেন।

উদাহরণ

রকিউল ইসলাম

ব্যবস্থাপনা পরিচালক

সংগঠনের পরিকল্পনা, কর্মসূচির বাস্তবায়ন আর কোন খাতে কত টাকা যাবে — সেই নীতিমালা দেখেন।

উদাহরণ

তারিকুল ইসলাম

কার্যক্রম সমন্বয়ক

বিতরণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন সামলান, কোন স্বেচ্ছাসেবক কোথায় যাবেন তা ঠিক করেন।

উদাহরণ

ডা. আয়েশা সিদ্দিকা

চিকিৎসা বিভাগের প্রধান

স্বাস্থ্য ক্যাম্পের পরিকল্পনা করেন এবং স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তারদের দূরের চরের গ্রামে নিয়ে যান।

উদাহরণ

ফাহিম শাহরিয়ার

কনটেন্ট সমন্বয়ক

আমাদের গল্পগুলো লেখেন, মাঠের প্রতিবেদন সম্পাদনা করেন আর দাতাদের সাথে যোগাযোগ রাখেন।

আমরা কোথায় কাজ করি

রাজশাহী থেকে শুরু, কাজ সারা দেশে

আমাদের অফিস রাজশাহীতে। তবে যেখানে মানুষের দরকার, আমাদের মাঠকর্মীরা সেখানেই যান। বিশেষ করে এই জেলাগুলোতে আমাদের কাজ বেশি:

  • রাজশাহী প্রধান অফিস ও শিক্ষা সহায়তা
  • কুড়িগ্রাম সবুজ বাংলাদেশ ও স্বাবলম্বী
  • সিলেট স্বাবলম্বী — রোজগারের উপকরণ
  • খুলনা স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্প

চলে আসুন বা যোগাযোগ করুন

ঠিকানা
আলুপট্টি, ঘোড়ামারা, বোয়ালিয়া, রাজশাহী-৬১০০, বাংলাদেশ
ফোন
+880 9638-858566
হোয়াটসঅ্যাপ
wa.me/lagbe.co
ইমেইল
[email protected]
অফিস খোলা থাকে
শনি – বৃহস্পতি, সকাল ১০টা – সন্ধ্যা ৬টা
আমাদের সাথে কথা বলুন

ডাবল-এন্ট্রি হিসাব

প্রতিটি পেমেন্ট আর প্রতিটি খরচ মিলিয়ে হিসাবের খাতায় তোলা হয় — শুধু একটা স্প্রেডশিটে নয়।

নির্দিষ্ট খাতের তহবিল

যাকাত আর নির্দিষ্ট কর্মসূচির জন্য দেওয়া টাকার হিসাব আলাদা রাখা হয়, খরচও হয় শুধু সেই কাজেই।

যাচাই করে সহায়তা

সাহায্য দেওয়ার আগে আমাদের কর্মী বাড়িতে গিয়ে প্রতিটি আবেদন যাচাই করেন।

তথ্যের সুরক্ষা

আপনার ব্যক্তিগত কাগজপত্র গোপনে রাখা হয়, আর শুধু আপনার আবেদনের কাজেই ব্যবহার করা হয়।

এই কাজে আপনারও জায়গা আছে।

দান করুন, স্বেচ্ছাসেবক হোন, কিংবা অন্তত একজন বন্ধুকে আমাদের কথা বলুন। দশের লাঠি একের বোঝা।